ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলডিসি উত্তরণের পরেও বাংলাদেশি ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্ক ছাড় পাবে মানি চেঞ্জারদের বৈদেশিক মুদ্রা জমা ও উত্তোলনে নতুন সুবিধা আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রক্রিয়া চলমান: শ্রমমন্ত্রী টানা তৃতীয় দফায় ১২০৭২ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম এক হাটেই প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বেচাকেনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৫% পর্যন্ত লভ্যাংশ পাঠাতে লাগবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি বিএসইসির নতুন সিদ্ধান্তে আংশিক সচল হচ্ছে স্থগিত কিছু বিও অ্যাকাউন্ট শেয়ারবাজারে ঋণ করে বিনিয়োগ করলে লাভ কতটা, ঝুঁকি কেমন ১২ বছরের ক্রীতদাস বালকের হাতে বৈশ্বিক মসলায় পরিণত হয়েছিল ভ্যানিলা তৈরি পোশাকশিল্প মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ

২০৫১ সালে ‘বয়স্ক অর্থনীতিতে’ প্রবেশ করবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে আগামী ২০৪৯ সালের মধ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে তা ঘটবে ২০৫১ সালে। অর্থাৎ অন্য বেশির ভাগ দক্ষিণ এশীয় দেশের তুলনায় জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ কিছুটা বেশি সময় পাবে। তবে এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে এখন থেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় জনসংখ্যার বার্ধক্যে রূপান্তর অনেক দ্রুত ঘটছে। তা ছাড়া, মাথাপিছু আয় তুলনামূলক কম থাকা অবস্থাতেই দেশগুলোকে এ পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠী দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রম উৎপাদনশীলতা ১ দশমিক ১ শতাংশ বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার এই বার্ষিক অবদান কমে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো উন্নয়নের যাত্রায় আরও দ্রুত এবং তুলনামূলক কম বয়সেই বয়স্ক হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই এমন নীতি গ্রহণ ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা বেশি ও উন্নত মানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে যুব লভ্যাংশের সুফল বাড়ানোর পাশাপাশি বার্ধক্যের জন্যও প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অনুকূল বয়সকাঠামো থাকলেও তা পুরোপুরি কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানো যায়নি। সীমিত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের শ্রমশক্তিতে কম অংশগ্রহণ এবং মানবসম্পদের ঘাটতি এর প্রধান কারণ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চশিক্ষা বা ডিগ্রি অর্জনের পরও ৪৪ শতাংশ স্নাতক অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে ধীরগতিতে। সম্প্রতি ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেককে কর্মী ছাঁটাইও করতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসম বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন দেশটি কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর। ভালো চাকরি সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা, তরুণদের শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বৃদ্ধ বয়সে আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও শুরু করতে হবে।

সূত্র: সমকাল 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি উত্তরণের পরেও বাংলাদেশি ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্ক ছাড় পাবে

২০৫১ সালে ‘বয়স্ক অর্থনীতিতে’ প্রবেশ করবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে আগামী ২০৪৯ সালের মধ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে তা ঘটবে ২০৫১ সালে। অর্থাৎ অন্য বেশির ভাগ দক্ষিণ এশীয় দেশের তুলনায় জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ কিছুটা বেশি সময় পাবে। তবে এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে এখন থেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় জনসংখ্যার বার্ধক্যে রূপান্তর অনেক দ্রুত ঘটছে। তা ছাড়া, মাথাপিছু আয় তুলনামূলক কম থাকা অবস্থাতেই দেশগুলোকে এ পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠী দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রম উৎপাদনশীলতা ১ দশমিক ১ শতাংশ বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার এই বার্ষিক অবদান কমে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো উন্নয়নের যাত্রায় আরও দ্রুত এবং তুলনামূলক কম বয়সেই বয়স্ক হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই এমন নীতি গ্রহণ ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা বেশি ও উন্নত মানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে যুব লভ্যাংশের সুফল বাড়ানোর পাশাপাশি বার্ধক্যের জন্যও প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অনুকূল বয়সকাঠামো থাকলেও তা পুরোপুরি কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানো যায়নি। সীমিত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের শ্রমশক্তিতে কম অংশগ্রহণ এবং মানবসম্পদের ঘাটতি এর প্রধান কারণ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চশিক্ষা বা ডিগ্রি অর্জনের পরও ৪৪ শতাংশ স্নাতক অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে ধীরগতিতে। সম্প্রতি ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেককে কর্মী ছাঁটাইও করতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসম বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন দেশটি কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর। ভালো চাকরি সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা, তরুণদের শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বৃদ্ধ বয়সে আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও শুরু করতে হবে।

সূত্র: সমকাল