উত্তরের জনপদে কলা বেচাকেনার অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুর্গাদহ কলার হাট। প্রতিদিন ভোর থেকে এ হাটে জমে ওঠে হাজারো কলার বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কলা নিয়ে আসেন এখানে। আর এসব কলা কিনে ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন এ হাটে বেচাকেনা হয় কোটি টাকার কলা। বিপুল এ বাণিজ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে পরিবহন, শ্রমিক, আড়তদারসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান। তবে এত বড় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে হাটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় বাড়ছে ভোগান্তি।
সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল হতেই হাটজুড়ে শুরু হয় ব্যস্ততা। কোথাও সারি সারি কলার স্তূপ, কোথাও চলছে দরদাম আবার কোথাও ট্রাকে কলা বোঝাইয়ের প্রস্তুতি। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কেউ নিয়ে এসেছেন কাঁচা কলা, কেউবা বিক্রির উপযোগী পাকা কলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা এসব কলা কিনে ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনে করে নিয়ে যাচ্ছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।
সদর উপজেলার দোগাছী এলাকার কলাচাষি আক্কাস আলী জানান, ১০ থেকে ১৫ দিন আগেও এক ঘাউর কলা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন সেই কলাই বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। হাটে কলা নিয়ে এলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী পাইকার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা এলাকার কলা ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম জানান, ভোরে কৃষকের বাগান থেকে কলা কিনে দুর্গাদহ হাটে নিয়ে আসেন তিনি। প্রতিদিন এ বাজার থেকে ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাকে কলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। কোটি টাকার বেচাকেনা হলেও সেই তুলনায় হাটের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। ব্যবসার পরিধি বাড়লেও বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার নানইস গ্রামের ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দীন জানান, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট দুর্গাদহ। দূরদূরান্ত থেকে এখানে পাইকাররা কলা কিনতে আসেন। কিন্তু হাটের জায়গা ছোট হওয়ায় ট্রাক, ভটভটি ও পিকআপ ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কলা ওঠানো-নামানো ও পরিবহনে সময় নষ্ট হয়। হাটের জায়গা সম্প্রসারণ এবং যানবাহন চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা করা হলে ব্যবসা আরও বাড়বে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাট জেলায় চলতি বছর প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়া এবং তুলনামূলক লাভের সম্ভাবনা থাকায় জেলায় কলা চাষের পরিধি বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে দুর্গাদহ কলার হাট স্থানীয় কৃষিপণ্য বিপণনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে।




















