ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অক্টোবরে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা  জুলাই-অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ টানা সাত মাস ৫ শতাংশের নিচে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি পোশাক খাতে অস্থিরতা চলতে থাকলে ক্রয়াদেশ কমার আশঙ্কা রপ্তানিকারকদের প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট খোলায় এনআইডির বাধ্যবাধকতা শিথিল ও ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যাংক এমডিদের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তৈরি পোশাকের ব্যবসা বাড়ছে, তবে মজুরি সবচেয়ে কম বাংলাদেশে মজুরি বোর্ড গঠনের তিন দিন পার হচ্ছে, সভা ডাকার কোনো উদ্যোগ নেই মুকেশ আম্বানি এখন এশিয়ার সেরা ধনী, সম্পদ কত বাড়ল ‘বাংলা কিউআর’ কোডে ব্যক্তিপর্যায়ে লেনদেন, যেভাবে পাবেন নিজের কোড এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ, ১২ কেজির সিলিন্ডার বেড়ে ২২৩ টাকা

সহিংসতায় উত্তাল ফ্রান্স, ম্যাক্রোঁ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামল জনস্রোত

  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে আয়োজিত প্রতিবাদ বিক্ষোভের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে নতুন করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা দমনে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। 


ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। 


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানান, শনিবারের বিক্ষোভে চরম সহিংসতা চালায় কালো পোশাক পরা সুনির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী। সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।


সহিংসতার ঘটনায় তুলুজ ও ক্লারমন্ট-ফের্যান্ড শহরে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ। পুলিশের প্রাথমিক হিসেব ও বিক্ষোভের আয়োজক সিজিটি ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই কর্মসূচিতে ফ্রান্সে ৪ লাখ ১০ হাজার থেকে ৮ লাখ পর্যন্ত মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। শুধুমাত্র রাজধানী প্যারিসেই সমাগম ঘটে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে আড়াই লাখ মানুষের।


প্যারিসের কেন্দ্রে বিপণিবিতানগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট এড়াতে দোকানপাট ও ঐতিহাসিক লুভর জাদুঘর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রধান মিছিলটি অনেকটাই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবে সরকারি কঠোর দমনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লিও শহরে এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিক্ষোভ এভাবে দমন করার অর্থ হলো আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের দিকে এগোচ্ছি।’


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ফ্রান্সে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর ধাক্কায় আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে ইমানুয়েল মাখোঁ সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল।


কেবল ফ্রান্স নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাসংক্রান্ত একই ধরনের অসন্তোষ থেকে ইতালি, বেলজিয়াম, স্পেন এবং পর্তুগালেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়াতে শুরু করেছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অক্টোবরে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা 

সহিংসতায় উত্তাল ফ্রান্স, ম্যাক্রোঁ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামল জনস্রোত

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে আয়োজিত প্রতিবাদ বিক্ষোভের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে নতুন করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা দমনে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। 


ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। 


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানান, শনিবারের বিক্ষোভে চরম সহিংসতা চালায় কালো পোশাক পরা সুনির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী। সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।


সহিংসতার ঘটনায় তুলুজ ও ক্লারমন্ট-ফের্যান্ড শহরে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ। পুলিশের প্রাথমিক হিসেব ও বিক্ষোভের আয়োজক সিজিটি ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই কর্মসূচিতে ফ্রান্সে ৪ লাখ ১০ হাজার থেকে ৮ লাখ পর্যন্ত মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। শুধুমাত্র রাজধানী প্যারিসেই সমাগম ঘটে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে আড়াই লাখ মানুষের।


প্যারিসের কেন্দ্রে বিপণিবিতানগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট এড়াতে দোকানপাট ও ঐতিহাসিক লুভর জাদুঘর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রধান মিছিলটি অনেকটাই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবে সরকারি কঠোর দমনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লিও শহরে এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিক্ষোভ এভাবে দমন করার অর্থ হলো আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের দিকে এগোচ্ছি।’


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ফ্রান্সে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর ধাক্কায় আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে ইমানুয়েল মাখোঁ সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল।


কেবল ফ্রান্স নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাসংক্রান্ত একই ধরনের অসন্তোষ থেকে ইতালি, বেলজিয়াম, স্পেন এবং পর্তুগালেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়াতে শুরু করেছে।