ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১০–২০ টাকা করে যাঁরা সঞ্চয় করেন, তাঁদের থেকেও কর নিতে চায় সরকার ১০ বছরে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ম্যাকডোনাল্ডস, বদলাবে মেনু ও সেবা কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প: মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্থিক অনিয়মের সন্দেহে রাকুল প্রীতদের প্রতিষ্ঠানে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি যাঁর সঞ্চয় সবচেয়ে কম, তাঁর কাছ থেকেই নেবে অতিরিক্ত রাজস্ব দুই দিনের মধ্যে আবার কমল সোনার দাম, ভরিতে ২১৫৮ টাকা বাণিজ্য জোট আরসিইপির সদস্য হতে চায় বাংলাদেশ, লাভ কী? আবার বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৬ ডলার ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

জুলাই আন্দোলনে আহত এক ব্যক্তিকে সরকারি সুবিধার চেক দেয়ার কথা বলে অর্থ দাবি, মারধর, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন এ মামলার আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গিয়াস উদ্দিন জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক গ্রহণ করতে যান। তবে চেক না পেয়ে তিনি বাংলামোটরের এনসিপি কার্যালয়ে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে বিষয়টি জানান। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে তাকে চেক দেয়া হবে।

তবে আসামিরা কালক্ষেপণ করে তাকে ‘আজ না, কাল’ আসতে বলেন। পরে গত বছরের ৩ মে চেক নেয়ার জন্য গিয়াস উদ্দিন রমনা মডেল থানাধীন জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা তাকে জানান, চেকের ৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলে তখনই ব্যাংক থেকে টাকা ক্যাশ করে ওই চেক নিতে পারবেন। তবে গিয়াস উদ্দিন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ সময় আসামিরা কৌশলে তাকে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরে রাখেন। আর শাহিদ ও সায়েম তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তাকে পাশের দেয়ালে ফেলে দিলে তিনি রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

পরবর্তী সময়ে আসামিরা তাকে সুস্থ করেন। জ্ঞান ফেরার পর গিয়াস উদ্দিন দেখতে পান, তার শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল তাকে কিল-ঘুষি মেরে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন।

পরে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রেখে যান। এরপর তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

গিয়াস উদ্দিন থানায় গিয়ে মামলা করতে চান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে তারা তাকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১০–২০ টাকা করে যাঁরা সঞ্চয় করেন, তাঁদের থেকেও কর নিতে চায় সরকার

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

আপডেট সময় : ১০:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই আন্দোলনে আহত এক ব্যক্তিকে সরকারি সুবিধার চেক দেয়ার কথা বলে অর্থ দাবি, মারধর, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন এ মামলার আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গিয়াস উদ্দিন জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক গ্রহণ করতে যান। তবে চেক না পেয়ে তিনি বাংলামোটরের এনসিপি কার্যালয়ে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে বিষয়টি জানান। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে তাকে চেক দেয়া হবে।

তবে আসামিরা কালক্ষেপণ করে তাকে ‘আজ না, কাল’ আসতে বলেন। পরে গত বছরের ৩ মে চেক নেয়ার জন্য গিয়াস উদ্দিন রমনা মডেল থানাধীন জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা তাকে জানান, চেকের ৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলে তখনই ব্যাংক থেকে টাকা ক্যাশ করে ওই চেক নিতে পারবেন। তবে গিয়াস উদ্দিন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ সময় আসামিরা কৌশলে তাকে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরে রাখেন। আর শাহিদ ও সায়েম তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তাকে পাশের দেয়ালে ফেলে দিলে তিনি রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

পরবর্তী সময়ে আসামিরা তাকে সুস্থ করেন। জ্ঞান ফেরার পর গিয়াস উদ্দিন দেখতে পান, তার শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল তাকে কিল-ঘুষি মেরে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন।

পরে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রেখে যান। এরপর তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

গিয়াস উদ্দিন থানায় গিয়ে মামলা করতে চান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে তারা তাকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।