উচ্চ ট্রেজারি ইল্ড, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কায় ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস টানা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের মতো কমিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে রয়টার্সের এক সমীক্ষা বলছে, ২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন তারা।
গত তিন সপ্তাহে ৩০ জন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীর ওপর পরিচালিত এ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় মধ্যম মূল্য পূর্বাভাস প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৪৯৫ ডলার। তিন মাস আগে এ পূর্বাভাস ছিল ৪ হাজার ৫০৯ ডলার।
অন্যদিকে, ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৫০ ডলার করা হয়েছে। আগের সমীক্ষায় এ পূর্বাভাস ছিল ৪ হাজার ৬১০ ডলার।
জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৫ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছিল। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ও ট্রেজারি ইল্ড বেড়ে যাওয়া এবং মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বর্তমানে স্বর্ণের দাম কমে প্রায় ৪ হাজার ডলারে নেমে এসেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে কোনো সুদ বা আয় না দেয়া স্বর্ণের আকর্ষণও কমেছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষক সুকি কুপার বলেন, আগামী কয়েক মাসে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং পরে আবার বাড়তে পারে। কারণ, বাজারে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে শুরু করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়ে স্বর্ণের দামে স্থিতিশীলতার আশা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জোরালো ক্রয় এবং বাস্তব বাজারে চাহিদা থাকায় মূল্যবান ধাতুর দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা না ঘটলে ভারত ও চীন থেকে স্থিতিশীল ও বাড়তি ভৌত চাহিদার কারণে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা বাজারকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এ বার্তার গুরুত্ব কেনা স্বর্ণের প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও বেশি।
শিল্প খাতের দুর্বল চাহিদায় চাপে রুপা
২০২৭ সালে রুপার গড় দাম প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭৫ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। চলতি বছরের জন্য তাদের পূর্বাভাস ছিল ৭০ দশমিক ৩০ ডলার। তবে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য দামও রুপার বর্তমান মূল্য ৫৩ ডলারের চেয়ে বেশি।
স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতু হওয়ার পাশাপাশি শিল্প খাতেও ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে রুপার। এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কায় স্বর্ণের তুলনায় রুপার ঝুঁকি বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ফটোভোল্টাইক বা সৌরবিদ্যুৎ খাতে রুপার চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়াও এর দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
তারা বলছেন, চলতি বছর রুপার দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স রুপার দাম রেকর্ড ১২১ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছিল। এরপর উৎপাদন খাতে রুপার পরিবর্তে বিকল্প উপাদান ব্যবহারের প্রবণতা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব বাজারের জন্য নেতিবাচক হয়ে উঠেছে।
রোনা ও’কনেল বলেন, বর্তমানে সৌরশক্তি খাতে অতিরিক্ত সরবরাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে ঘিরে চাপের কারণে মনোভাবের দিক থেকেও স্বর্ণের তুলনায় রুপার পারফরম্যান্স দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রুপায় বিনিয়োগের প্রতি নতুন করে কিছুটা আগ্রহ দেখা গেলেও চলতি বছরে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে।


















