অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, সরকার শিল্প ও সংস্কৃতিকে মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করে সৃজনশীল অর্থনীতিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি নতুন উপাদান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
ঢাকায় ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস: মডার্ন অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বইটি প্রকাশ করেছে।
“আমরা সবাই শিল্পকলা ভালোবাসি। আমরা থিয়েটার পছন্দ করি। আমরা সঙ্গীত পছন্দ করি। কিন্তু আমরা কখনো একে বাণিজ্যিকীকরণ করিনি,” মন্ত্রী বললেন।
তিনি বলেন, লন্ডনের থিয়েটার এলাকার টিকিট কেনা থেকে শুরু করে কাছের গ্যালারি ও দোকানপাট পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ব্যয় ব্রিটিশ জিডিপিতে অবদান রাখে। তিনি প্রশ্ন করেন, “আমরা বাংলাদেশে কেন একই পরিবেশ তৈরি করি না?”
মন্ত্রী বলেন, সরকার বেসরকারি খাত ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে, কারণ “সরকার সবসময় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয় না”। তিনি আরও বলেন, বাজেটে তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং বেসরকারি অংশীদারদের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশিত।
তিনি পাহাড়ের এক শিল্পীর কথা উল্লেখ করেন, যিনি তাঁর কাছে প্রতিটি ছবি ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। তিনি জানান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি প্রদর্শনীর পর একই ধরনের শিল্পকর্ম প্রতিটি ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তিনি বলেন, কারিগররা আর্থিক, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তা পাবেন, যার মধ্যে অ্যামাজন, ইবে এবং আলিবাবার মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, এর ফলে তারা যে মূল্য পান তা দ্বিগুণ হতে পারে।
তিনি বলেছেন, এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আসবে।
“এটি বাংলাদেশের জন্য একটি সফট পাওয়ার,” তিনি বলেন।
ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারা কুক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আবুল খায়ের এবং ফাউন্ডেশনটির মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরীর সঙ্গে তিনি যৌথভাবে বইটি উন্মোচন করেন।
এই বইটিতে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেশের শিল্পকলাকে রূপদানকারী আন্দোলন ও সৃজনশীল কণ্ঠস্বরগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে এবং এতে ৩২ জন শিল্পীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
“শিল্প একটি জাতিকে বোঝার এক অনন্য উপায়—তার পরিচয়, তার বিবর্তন এবং জনগণের কল্পনাকে,” বলেছেন এনামুল হক।


















