ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অক্টোবরে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা  জুলাই-অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ টানা সাত মাস ৫ শতাংশের নিচে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি পোশাক খাতে অস্থিরতা চলতে থাকলে ক্রয়াদেশ কমার আশঙ্কা রপ্তানিকারকদের প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট খোলায় এনআইডির বাধ্যবাধকতা শিথিল ও ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যাংক এমডিদের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তৈরি পোশাকের ব্যবসা বাড়ছে, তবে মজুরি সবচেয়ে কম বাংলাদেশে মজুরি বোর্ড গঠনের তিন দিন পার হচ্ছে, সভা ডাকার কোনো উদ্যোগ নেই মুকেশ আম্বানি এখন এশিয়ার সেরা ধনী, সম্পদ কত বাড়ল ‘বাংলা কিউআর’ কোডে ব্যক্তিপর্যায়ে লেনদেন, যেভাবে পাবেন নিজের কোড এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ, ১২ কেজির সিলিন্ডার বেড়ে ২২৩ টাকা

অর্থনৈতিক গতিমন্থরতা, ভ্যাট আদায়ের ধসে রাজস্ব ঘাটতি পৌঁছাল ৪৩,০০০ কোটি টাকায়

  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

স্থবির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা ও সরকারি ব্যয়ের মন্থরগতির সরাসরি আঘাত পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতির মুখ দেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

শিল্পোৎপাদন, বিক্রিবাট্টা ও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাহিদার অন্যতম প্রধান নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আদায়ে রেকর্ড ১৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর ফলে বিগত অর্থবছরের একই সময়ের ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে— চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সার্বিক রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২ শতাংশেরও নিচে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে ১.৩৫ লাখ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা এই বিশাল ঘাটতির জন্য ব্যবসার গতিমন্থরতা, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, প্রত্যাশিত আমদানি না হওয়া, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবন্নগ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিসহ সার্বিক অর্থনৈতিক স্থবিরতাকে দায়ী করেছেন। এছাড়া হঠাৎ করে নীতি পরিবর্তন করে ভ্যাট পরিশোধের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং কর আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের প্রশাসনিক দুর্বলতাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন কেউ কেউ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, সামষ্টিক অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিই মূলত রাজস্ব আদায়ে এই ধসের প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, “অর্থনীতি দুর্বল, রাজস্ব আদায় কম হওয়ার– এটিই মূল কারণ। এছাড়া যা আদায়যোগ্য, তাও ফাঁকির কারণে সরকারের কোষাগারে আসছে না।”

তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগ পুরোপুরি মন্থর হয়ে আছে।। লম্বা সময় ধরে ৮ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ভোগ ব্যয় কমে গেছে। কিছু পণ্য বিক্রি হবে না বলে আমদানিকারকরাও সেগুলো আমদানি করছেন না।”

রাজস্ব আদায়ের এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তার আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, “প্রতি মাসের স্থলে তিন মাসে ভ্যাট আদায়ের পলিসির কারণে আদায় কম হয়েছে। এছাড়া বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভাট আদায় না হওয়া, সরকারের উন্নয়ন  প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ভ্যাট আদায় কিছুটা কম হয়েছে।” তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী মাসগুলোতে আদায় বাড়বে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অক্টোবরে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা 

অর্থনৈতিক গতিমন্থরতা, ভ্যাট আদায়ের ধসে রাজস্ব ঘাটতি পৌঁছাল ৪৩,০০০ কোটি টাকায়

আপডেট সময় : ১১:১৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

স্থবির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা ও সরকারি ব্যয়ের মন্থরগতির সরাসরি আঘাত পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতির মুখ দেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

শিল্পোৎপাদন, বিক্রিবাট্টা ও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাহিদার অন্যতম প্রধান নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আদায়ে রেকর্ড ১৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর ফলে বিগত অর্থবছরের একই সময়ের ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে— চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সার্বিক রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২ শতাংশেরও নিচে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে ১.৩৫ লাখ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা এই বিশাল ঘাটতির জন্য ব্যবসার গতিমন্থরতা, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, প্রত্যাশিত আমদানি না হওয়া, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবন্নগ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিসহ সার্বিক অর্থনৈতিক স্থবিরতাকে দায়ী করেছেন। এছাড়া হঠাৎ করে নীতি পরিবর্তন করে ভ্যাট পরিশোধের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং কর আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের প্রশাসনিক দুর্বলতাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন কেউ কেউ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, সামষ্টিক অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিই মূলত রাজস্ব আদায়ে এই ধসের প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, “অর্থনীতি দুর্বল, রাজস্ব আদায় কম হওয়ার– এটিই মূল কারণ। এছাড়া যা আদায়যোগ্য, তাও ফাঁকির কারণে সরকারের কোষাগারে আসছে না।”

তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগ পুরোপুরি মন্থর হয়ে আছে।। লম্বা সময় ধরে ৮ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ভোগ ব্যয় কমে গেছে। কিছু পণ্য বিক্রি হবে না বলে আমদানিকারকরাও সেগুলো আমদানি করছেন না।”

রাজস্ব আদায়ের এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তার আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, “প্রতি মাসের স্থলে তিন মাসে ভ্যাট আদায়ের পলিসির কারণে আদায় কম হয়েছে। এছাড়া বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভাট আদায় না হওয়া, সরকারের উন্নয়ন  প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ভ্যাট আদায় কিছুটা কম হয়েছে।” তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী মাসগুলোতে আদায় বাড়বে।