ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৫% পর্যন্ত লভ্যাংশ পাঠাতে লাগবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি বিএসইসির নতুন সিদ্ধান্তে আংশিক সচল হচ্ছে স্থগিত কিছু বিও অ্যাকাউন্ট শেয়ারবাজারে ঋণ করে বিনিয়োগ করলে লাভ কতটা, ঝুঁকি কেমন ১২ বছরের ক্রীতদাস বালকের হাতে বৈশ্বিক মসলায় পরিণত হয়েছিল ভ্যানিলা তৈরি পোশাকশিল্প মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা ভারতে স্বর্ণের ‘আমদানি’ বাড়ল ১৫০০ শতাংশ, ৩ টন থেকে একলাফে ৫০ টন ২০৫১ সালে ‘বয়স্ক অর্থনীতিতে’ প্রবেশ করবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে শক্ত অবস্থান গড়ছে রিমার্ক, আলিবাবার সঙ্গে চুক্তি সই অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানো সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার: দুই পোশাক কারখানার ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

  • আপডেট সময় : ১১:৩২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সোমবার (২ নভেম্বর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রিয়াজ নিটওয়্যার ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্স ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

সিআইসির তদন্ত দল প্রতিষ্ঠান দুটির কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন অসংগতি ও অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। তবে আমদানি করা কাপড়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৩৭ টন, অর্থাৎ ৭৮ শতাংশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। কারখানার গুদামে এসব কাপড়ের অস্তিত্ব না থাকার পাশাপাশি রপ্তানির হিসাবেও এর কোনো তথ্য মেলেনি। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড় সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি নথিতে সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব পাওয়া গেলেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়ে। ৩১টি ইউডির বিপরীতে কোনো রপ্তানি না হলেও এর মধ্যে ৩০টি ইউডিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটাই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আংশিক রপ্তানি হওয়া ১০টি ইউডির ক্ষেত্রেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।

কারখানা পরিদর্শনে ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের মজুদ পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া কাপড়ের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। তদন্তে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা

অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের ক্ষেত্রেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইসি। প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়া যায়নি। তদন্তে এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এ অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি এবং চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চার লাখের বেশি পিস পোশাক তৈরির আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। এসব কাঁচামালের বিপরীতে মূসকও পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমেও মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব অনিয়মে লিশা টেক্সের ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে সিআইসি।

এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এ ধরনের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৫% পর্যন্ত লভ্যাংশ পাঠাতে লাগবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার: দুই পোশাক কারখানার ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

আপডেট সময় : ১১:৩২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সোমবার (২ নভেম্বর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রিয়াজ নিটওয়্যার ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্স ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

সিআইসির তদন্ত দল প্রতিষ্ঠান দুটির কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন অসংগতি ও অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। তবে আমদানি করা কাপড়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৩৭ টন, অর্থাৎ ৭৮ শতাংশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। কারখানার গুদামে এসব কাপড়ের অস্তিত্ব না থাকার পাশাপাশি রপ্তানির হিসাবেও এর কোনো তথ্য মেলেনি। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড় সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি নথিতে সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব পাওয়া গেলেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়ে। ৩১টি ইউডির বিপরীতে কোনো রপ্তানি না হলেও এর মধ্যে ৩০টি ইউডিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটাই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আংশিক রপ্তানি হওয়া ১০টি ইউডির ক্ষেত্রেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।

কারখানা পরিদর্শনে ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের মজুদ পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া কাপড়ের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। তদন্তে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা

অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের ক্ষেত্রেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইসি। প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়া যায়নি। তদন্তে এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এ অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি এবং চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চার লাখের বেশি পিস পোশাক তৈরির আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। এসব কাঁচামালের বিপরীতে মূসকও পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমেও মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব অনিয়মে লিশা টেক্সের ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে সিআইসি।

এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এ ধরনের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।