ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অক্টোবরে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা  জুলাই-অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ টানা সাত মাস ৫ শতাংশের নিচে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি পোশাক খাতে অস্থিরতা চলতে থাকলে ক্রয়াদেশ কমার আশঙ্কা রপ্তানিকারকদের প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট খোলায় এনআইডির বাধ্যবাধকতা শিথিল ও ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যাংক এমডিদের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তৈরি পোশাকের ব্যবসা বাড়ছে, তবে মজুরি সবচেয়ে কম বাংলাদেশে মজুরি বোর্ড গঠনের তিন দিন পার হচ্ছে, সভা ডাকার কোনো উদ্যোগ নেই মুকেশ আম্বানি এখন এশিয়ার সেরা ধনী, সম্পদ কত বাড়ল ‘বাংলা কিউআর’ কোডে ব্যক্তিপর্যায়ে লেনদেন, যেভাবে পাবেন নিজের কোড এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ, ১২ কেজির সিলিন্ডার বেড়ে ২২৩ টাকা

চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ববাজারের নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশটির বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩৩৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩০০ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার মধ্যেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিকল্প ও উদীয়মান বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চার মাসে বড় বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে তুরস্কে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরবে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। স্পেনের বাজারেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এতে বাজারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বড় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্য। জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশটিতে ১৭৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

অক্টোবর মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। এ মাসে দেশটিতে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, অক্টোবরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এটি দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কিংবা এর প্রয়োগ এড়ানোর সুযোগ নিয়ে বিজিএমইএ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সময়মতো সরবরাহ, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফের আশা, প্রচলিত বড় বাজারে প্রবৃদ্ধি এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের ফলে আগামী মাসগুলোতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অক্টোবরে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা 

চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারের নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশটির বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩৩৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩০০ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার মধ্যেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিকল্প ও উদীয়মান বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চার মাসে বড় বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে তুরস্কে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরবে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। স্পেনের বাজারেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এতে বাজারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বড় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্য। জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশটিতে ১৭৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

অক্টোবর মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। এ মাসে দেশটিতে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, অক্টোবরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এটি দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কিংবা এর প্রয়োগ এড়ানোর সুযোগ নিয়ে বিজিএমইএ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সময়মতো সরবরাহ, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফের আশা, প্রচলিত বড় বাজারে প্রবৃদ্ধি এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের ফলে আগামী মাসগুলোতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।