একই মাঠ, একই শহর, তবু স্বাগতিক ভারত নয়! দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত, আর স্বাগতিকের ভূমিকায় থাকবে আফগানরা। ক্রিকেটে বিরল এই দৃশ্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তিন ম্যাচের সিরিজে ‘হোম’ সুবিধা পেতে যাচ্ছে ইব্রাহিম জাদরানের দল।
কয়েক মাস আগেও অবশ্য ছবিটা ছিল একেবারে ভিন্ন। ভারতের মাটিতে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিক ছিল ভারত, আর আফগানিস্তান ছিল সফরকারী দল। এবার সেই সমীকরণই বদলে গেছে।
ভারতের মাটিতে হোম সিরিজ আয়োজন আফগানিস্তানের জন্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে অতীতে ভারতের দেরাদুন, গ্রেটার নয়ডা, লক্ষ্ণৌ ও দিল্লির বিভিন্ন ভেন্যুতে নিজেদের হোম ম্যাচ আয়োজন করেছে আফগানিস্তান। তবে এবারই প্রথম তাদের ‘ঘরের মাঠে’ ভারতকে দেখা যাবে সফরকারী দলের ভূমিকায়।
এর আগে আফগানিস্তান নিজেদের হোম ম্যাচের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও নিয়মিত ব্যবহার করেছে। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার পর বিশেষ করে আমিরাত ছিল তাদের গুরুত্বপূর্ণ হোম বেস। কিন্তু সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে এবার ভারতের ভেন্যুকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এই আয়োজনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। আর ‘হোম’ দলের মর্যাদা পাওয়ায় আর্থিক দিক থেকেও সুবিধা পাবে আফগানিস্তান।
হোম দল হিসেবে সম্প্রচারস্বত্ব ও টিকিট বিক্রির আয়ের বড় অংশ পাবে আফগানিস্তান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচের মিডিয়া স্বত্ব থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার আয় করতে পারে এসিবি। ভারতের মাঠে দর্শকের উপস্থিতিও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় টিকিট বিক্রি থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসতে পারে।
আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের জন্য এটি হবে নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে ভারতও নিজেদের সাম্প্রতিক কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
সামনে এশিয়ান গেমস ২০২৬। জাপানে অনুষ্ঠেয় এই আসরে অংশ নেবে ভারত ও আফগানিস্তান। তাই দিল্লির সিরিজটি শুধু দ্বিপক্ষীয় লড়াই নয়, দুই দলের জন্যই এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের শক্তি ও প্রস্তুতি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

























