ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবৈধ ২২ অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা সপ্তাহ শুরু হলো, কোন সূচক কোথায় আছে জেনে নিন পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি হতে পারে মিউচুয়াল ফান্ড আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি আগামী ৪ দিনের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দিলে পাওয়া যাবে করছাড়, পাবেন না কারা দেশের বাজারে আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ও রুপা সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসনে এডিবির ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ হাম উপসর্গে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতিতে চাপে পোশাক শিল্প

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক নিশ্চিত করলেন জিন্নাত

  • আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

জাপানের নাগোয়ায় যখন কাবাডি দলের হারের হতাশায় ডুবেছিল বাংলাদেশ শিবির, ঠিক তখনই এলো ঐতিহাসিক এক সুসংবাদ। চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশকে পদক এনে দিলেন নারী উশুকা জিন্নাত আক্তার। ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে কোনো ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে পা রাখার মাধ্যমে তার অন্তত ব্রোঞ্জ পদক জয় নিশ্চিত হয়েছে।

সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে লাইট হেভিওয়েট (৮১ কেজি) বিভাগে বক্সার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কাবাডি ও ক্রিকেটে দলীয় পদক আসলেও চার দশক ধরে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে। অবশেষে জিন্নাতের এই সাফল্যে ঘুচল ৪০ বছরের পদকখরা।

নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী নকআউট পদ্ধতিতে অংশ নেন। প্রথম রাউন্ডে (প্রি-কোয়ার্টার) বাই পেয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জিন্নাত। সেখানে তার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসার। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের দিন স্কেলে নির্দিষ্ট ওজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ান প্রতিযোগীকে ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষণা করেন বিচারকরা। ফলে কোনো লড়াই ছাড়াই ওয়াকওভার পেয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যান জিন্নাত। উশুর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগী সংখ্যা ৬ জনের বেশি হলে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই অ্যাথলেটকেই ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়। ফলে সেমিফাইনালে ওঠা মাত্রই জিন্নাতের ঝুলিতে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়ে যায়। 

নেত্রকোনার মেয়ে জিন্নাত ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা ৭টি সোনা জিতে অপরাজিত রয়েছেন। জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়েই এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে পদক নিশ্চিত করলেন তিনি। ওয়াকওভার পেয়ে পদক নিশ্চিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আনন্দিত জিন্নাত জানান, ‘আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম ফাইট করার। খেলা হয়নি। তবে পদক নিশ্চিত হয়েছে। আমি কি খুশি সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’

তবে ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না এই উশুকা। আগামীকাল সেমিফাইনালে চীনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন তিনি। সেখানে জিতলে মিলবে ফাইনালের টিকিট, যার মাধ্যমে উন্মোচিত হবে সোনা কিংবা রূপা জয়ের নতুন দিগন্ত।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ ২২ অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক নিশ্চিত করলেন জিন্নাত

আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানের নাগোয়ায় যখন কাবাডি দলের হারের হতাশায় ডুবেছিল বাংলাদেশ শিবির, ঠিক তখনই এলো ঐতিহাসিক এক সুসংবাদ। চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশকে পদক এনে দিলেন নারী উশুকা জিন্নাত আক্তার। ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে কোনো ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে পা রাখার মাধ্যমে তার অন্তত ব্রোঞ্জ পদক জয় নিশ্চিত হয়েছে।

সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে লাইট হেভিওয়েট (৮১ কেজি) বিভাগে বক্সার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কাবাডি ও ক্রিকেটে দলীয় পদক আসলেও চার দশক ধরে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে। অবশেষে জিন্নাতের এই সাফল্যে ঘুচল ৪০ বছরের পদকখরা।

নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী নকআউট পদ্ধতিতে অংশ নেন। প্রথম রাউন্ডে (প্রি-কোয়ার্টার) বাই পেয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জিন্নাত। সেখানে তার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসার। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের দিন স্কেলে নির্দিষ্ট ওজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ান প্রতিযোগীকে ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষণা করেন বিচারকরা। ফলে কোনো লড়াই ছাড়াই ওয়াকওভার পেয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যান জিন্নাত। উশুর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগী সংখ্যা ৬ জনের বেশি হলে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই অ্যাথলেটকেই ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়। ফলে সেমিফাইনালে ওঠা মাত্রই জিন্নাতের ঝুলিতে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়ে যায়। 

নেত্রকোনার মেয়ে জিন্নাত ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা ৭টি সোনা জিতে অপরাজিত রয়েছেন। জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়েই এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে পদক নিশ্চিত করলেন তিনি। ওয়াকওভার পেয়ে পদক নিশ্চিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আনন্দিত জিন্নাত জানান, ‘আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম ফাইট করার। খেলা হয়নি। তবে পদক নিশ্চিত হয়েছে। আমি কি খুশি সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’

তবে ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না এই উশুকা। আগামীকাল সেমিফাইনালে চীনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন তিনি। সেখানে জিতলে মিলবে ফাইনালের টিকিট, যার মাধ্যমে উন্মোচিত হবে সোনা কিংবা রূপা জয়ের নতুন দিগন্ত।