ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবৈধ ২২ অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা সপ্তাহ শুরু হলো, কোন সূচক কোথায় আছে জেনে নিন পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি হতে পারে মিউচুয়াল ফান্ড আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি আগামী ৪ দিনের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দিলে পাওয়া যাবে করছাড়, পাবেন না কারা দেশের বাজারে আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ও রুপা সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসনে এডিবির ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ হাম উপসর্গে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতিতে চাপে পোশাক শিল্প

অর্থ কেলেঙ্কারিতে দুই দেশের সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করল ফিফা  

  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ফিফার অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই সাবেক ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল ও মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিলের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত শেষে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী।

ফিফার নৈতিকতা কমিটির বিচারকরা দুজনকেই গুরুতর আর্থিক অনিয়মের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফার তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগটি আরও নির্দিষ্ট। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ফিফার দেয়া কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের দায়ে তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই সময়ে সদস্য দেশগুলোর জন্য ফিফা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিয়েছিল।

মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জালিল ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে অ্যাপার্টমেন্ট কেনায় ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।

ক্যাসেলের বিরুদ্ধে এটিই অবশ্য প্রথম ব্যবস্থা নয়। মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের এই ফুটবল কর্মকর্তা ও তার সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে কর ফাঁকির মামলায় দেশটির আদালতে দোষ স্বীকার করেন। এর আগে ২০১১ সালে ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্তের মুখে পড়েছিলেন ক্যাসেল ও হিউজ। ওই অর্থ তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।

এত কিছুর পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে দেশটির ফুটবল সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। তবে ‘অসাধারণ সংকট’ ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে ফিফা।

আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্যাসেলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে। ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।

হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। অনিয়মিত লেনদেনে সুবিধা নেয়া ও তা সহজ করার অভিযোগে তাঁকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।

অন্যদিকে জালিলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকে ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, আগিলের বিরুদ্ধে ফিফার অর্থের অপব্যবহারে সহায়তা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ ২২ অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা

অর্থ কেলেঙ্কারিতে দুই দেশের সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করল ফিফা  

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিফার অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই সাবেক ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল ও মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিলের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত শেষে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী।

ফিফার নৈতিকতা কমিটির বিচারকরা দুজনকেই গুরুতর আর্থিক অনিয়মের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফার তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগটি আরও নির্দিষ্ট। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ফিফার দেয়া কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের দায়ে তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই সময়ে সদস্য দেশগুলোর জন্য ফিফা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিয়েছিল।

মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জালিল ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে অ্যাপার্টমেন্ট কেনায় ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।

ক্যাসেলের বিরুদ্ধে এটিই অবশ্য প্রথম ব্যবস্থা নয়। মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের এই ফুটবল কর্মকর্তা ও তার সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে কর ফাঁকির মামলায় দেশটির আদালতে দোষ স্বীকার করেন। এর আগে ২০১১ সালে ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্তের মুখে পড়েছিলেন ক্যাসেল ও হিউজ। ওই অর্থ তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।

এত কিছুর পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে দেশটির ফুটবল সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। তবে ‘অসাধারণ সংকট’ ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে ফিফা।

আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্যাসেলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে। ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।

হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। অনিয়মিত লেনদেনে সুবিধা নেয়া ও তা সহজ করার অভিযোগে তাঁকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।

অন্যদিকে জালিলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকে ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, আগিলের বিরুদ্ধে ফিফার অর্থের অপব্যবহারে সহায়তা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।