দুই মৌসুম ধরে লা লিগায় আধিপত্য বার্সেলোনার। এবার সেই আধিপত্যকে হ্যাটট্রিকে রূপ দেয়ার মিশন হ্যান্সি ফ্লিকের। তবে পথটা এবার আগের চেয়ে কঠিন। দলবদলে বড় পরিবর্তন, রদ্রির মতো বিশ্বমানের মিডফিল্ডারের আগমন, লামিনে ইয়ামালকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা; সব মিলিয়ে নতুন মৌসুমে বার্সার সামনে একসঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জ। শুধু ঘরোয়া সাফল্য নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগের দীর্ঘ অপেক্ষা ঘোচানোর চাপও থাকছে ফ্লিকের কাঁধে। এনডিটিভির প্রতিবেদন।
আগামী রোববার (২৩ আগস্ট) এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন লা লিগা মৌসুম শুরু করবে বার্সেলোনা। তার এক দিন আগে এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। দুই দলের লড়াইয়ে এবার যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা, রিয়ালের ডাগআউটে ফিরেছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’ হোসে মরিনহো। ফলে ফ্লিকের সামনে শুধু শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নয়, মরিনহোর রিয়ালকে পেছনে ফেলার পরীক্ষাও।
ফ্লিকের অধীনে গত দুই মৌসুমে লা লিগায় দারুণ সাফল্য পেয়েছে বার্সা। এবার অবশ্য দলটিতে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর আক্রমণভাগে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রদ্রিকে দলে এনে মাঝমাঠে বড় শক্তি যোগ করেছে কাতালান ক্লাবটি।
বিশ্বকাপজয়ী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের অন্তর্ভুক্তি মাঝমাঠের ভারসাম্য বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্লিকের হাই-প্রেসিং ফুটবলকেও আরও কার্যকর করতে পারে। তবে নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুরোনো কাঠামোর সমন্বয় করাই এখন জার্মান কোচের বড় পরীক্ষা।
বার্সার সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী যে রিয়াল মাদ্রিদ, সেটি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার সেই লড়াই আরও জমার আভাস। রিয়ালের ডাগআউটে ফিরেছেন মরিনহো। পাশাপাশি দলবদলে বেশ কিছু বড় সাইনিং করে নিজেদের শক্তিও বাড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ফলে বার্সার টানা তৃতীয় লিগ শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে রিয়াল। ফ্লিকের সঙ্গে মরিনহোর কৌশলগত লড়াইও যোগ করবে বাড়তি উত্তেজনা।
দলবদলের বাজার এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আক্রমণভাগে একজন পরীক্ষিত সেন্টার ফরোয়ার্ডের ঘাটতি পূরণ করতে চাইছে বার্সা। সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ। তাকে দলে ভেড়াতে পারলে বার্সার আক্রমণভাগ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
বার্সার নতুন মৌসুমের সাফল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন লামিনে ইয়ামাল। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ইতিমধ্যেই দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছেন। গত মৌসুমে চোটের কারণে নিয়মিত ছন্দ ধরে রাখতে না পারলেও এবার পূর্ণ মৌসুমে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত তিনি। ইয়ামালের সঙ্গে রাফিনহা, ওলমো ও নতুন আসা খেলোয়াড়দের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
লা লিগায় টানা তৃতীয় শিরোপা জেতাই ফ্লিকের একমাত্র লক্ষ্য নয়। ইউরোপের সবচেয়ে বড় মঞ্চ চ্যাম্পিয়নস লিগেও নিজেদের হারানো গৌরব ফেরাতে চায় বার্সেলোনা। ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য থাকলেও ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না কাতালান ক্লাবটি।
আল-আহলির বিপক্ষে শেষ প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচের আগে বার্সার সমর্থকদের উদ্দেশে ফ্লিক বলেন, ‘আমাদের অসাধারণ একটি দল রয়েছে, যেখানে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। আমরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে এবং সবসময় শিরোপার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।’
তাই নতুন মৌসুমে ফ্লিকের সামনে হিসাবটা পরিষ্কার; লা লিগায় হ্যাটট্রিক, আর চ্যাম্পিয়নস লিগে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠের শক্তি, ইয়ামালের গতিময় আক্রমণ আর ফ্লিকের হাই-প্রেসিং ফুটবল যদি এক সুতোয় বাঁধা যায়, তাহলে বার্সার সামনে আবারও সাফল্যের দরজা খুলতে পারে। তবে সেই দরজা পেরোতে হলে মরিনহোর রিয়ালসহ একঝাঁক শক্ত প্রতিপক্ষকে টপকাতে হবে। টানা দুই শিরোপার পর এবার কি তিনে তিন করতে পারবে ফ্লিকের বার্সা, উত্তর মিলবে মাঠেই।

























