ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা আশ্রয় চাচ্ছেন—এমন সর্বোচ্চ ২ লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি এবং কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা।

এপি জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারে পররাষ্ট্র দপ্তর। এ ক্ষেত্রে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেয়া তথাকথিত বি-১ ও বি-২ ভিসাধারীদের লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেসব ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাচ্ছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘আমরা ডিএইচএসের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করছি ও তাদের অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল করছি, যারা স্বল্পমেয়াদি সফরের কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, কিন্তু পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।’

এপির উদ্ধৃত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে না। বরং যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের বেশিরভাগকে অন্য একটি অভিবাসন শ্রেণিতে নেয়া হবে। অর্থাৎ, তাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ব্যবসা বা পর্যটন ভিসাধারী হিসেবে তাদের মর্যাদা আর থাকবে না।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও পর্যটন ও ব্যবসা ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন। এক্সে দেয়া এক পোস্টে ল্যান্ডাও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত। অভিবাসন আইন এড়ানোর উপায় হিসেবে আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ ব্যবহার করা উচিত নয়।’

গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার প্রশাসন ভিসা আবেদনকারীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চাওয়া, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য ব্যয়বহুল বন্ড জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া পুরোপুরি বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে।

গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসাও বাতিল করেছে। এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে মার্কিন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন—এমন ব্যক্তিদেরও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আইওএস ২৭ নামানোর পর বিপাকে আইফোন ব্যবহারকারীরা

২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ১১:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা আশ্রয় চাচ্ছেন—এমন সর্বোচ্চ ২ লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি এবং কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা।

এপি জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারে পররাষ্ট্র দপ্তর। এ ক্ষেত্রে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেয়া তথাকথিত বি-১ ও বি-২ ভিসাধারীদের লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেসব ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাচ্ছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘আমরা ডিএইচএসের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করছি ও তাদের অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল করছি, যারা স্বল্পমেয়াদি সফরের কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, কিন্তু পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।’

এপির উদ্ধৃত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে না। বরং যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের বেশিরভাগকে অন্য একটি অভিবাসন শ্রেণিতে নেয়া হবে। অর্থাৎ, তাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ব্যবসা বা পর্যটন ভিসাধারী হিসেবে তাদের মর্যাদা আর থাকবে না।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও পর্যটন ও ব্যবসা ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন। এক্সে দেয়া এক পোস্টে ল্যান্ডাও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত। অভিবাসন আইন এড়ানোর উপায় হিসেবে আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ ব্যবহার করা উচিত নয়।’

গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার প্রশাসন ভিসা আবেদনকারীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চাওয়া, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য ব্যয়বহুল বন্ড জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া পুরোপুরি বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে।

গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসাও বাতিল করেছে। এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে মার্কিন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন—এমন ব্যক্তিদেরও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।