সোশ্যাল মিডিয়াতে গেলেই এখন আশির দশকের ছবি দেখা যাচ্ছে। বলা যায় নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। সবাই যেন ২০২৬ সালে এসে সেই আশির দশক ফিরিয়ে আনায় ব্যস্ত। তাই অনেকেই সেই সময়ের মত ছবি আপলোড দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবার কেউ ছবির সঙ্গে আশির দশকের গান দিচ্ছেন। বর্তমান সময়ের তারকারাও এমন ছবি পোস্ট করছেন।সব মিলিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে আশির দশকের নস্টালজিয়া চলমান। তাই হয়তো অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে কেন এই সময় এসে এমন ছবি। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এর পেছনের কারণ উঠে এসেছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে গেলেই এখন পুরোনো ছবি। বদলে গেছে পোশাক, চুলের স্টাইল আর আশির দশকের ঘরবাড়ির আবহ। ব্যস, মুহূর্তেই যেন ফিরে যাওয়া যায় কয়েক দশক পেছনে। গত কয়েক দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়েই সবাই আশির দশকের রূপে নিজেকে প্রকাশ করছেন। দেখা যাচ্ছে কেউ পরছেন উঁচু কোমরের প্যান্ট, কেউ শাড়ি বা বড় ফ্রেমের চশমায় সেজে উঠছেন। ছবির পেছনে দেখা যাচ্ছে কাঠের শোকেস, ভারী টেলিভিশন, মোজাইক মেঝে, পুরোনো স্কুটার কিংবা অ্যাম্বাসেডর গাড়ি। ছবিতে ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হচ্ছে দানাদার আবহ, হালকা ঝাপসা ভাব ও বিবর্ণ রং যেন সত্যিই কয়েক দশক আগের অ্যালবাম থেকে উঠে এসেছে ছবিটি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, হঠাৎ আশির দশকই কেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে রয়েছে মানুষের স্বাভাবিক নস্টালজিয়া। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ বি নায়ারের মতে, বর্তমান জীবনের কর্মক্ষেত্রের চাপ, পড়াশোনা, সম্পর্কের জটিলতা ও আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে সাময়িকভাবে দূরে থাকার একটি উপায় হতে পারে অতীতকে স্মরণ করা।
এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘রোজি রেট্রোস্পেকশন বায়াস’। অর্থাৎ অতীতের ঘটনাগুলোকে আমরা অনেক সময় বাস্তবের চেয়ে বেশি সুন্দর করে মনে করি। সেই সময়ের কষ্টগুলো ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়, আর সুখের স্মৃতিগুলোই বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
সমাজবিজ্ঞানী জ্যোতি এস নায়ারের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুতগতির জীবনে মানুষ এখন আরও বেশি সংযোগ ও আপন অনুভূতি খুঁজছে। অতীতের সময়কে তাই অনেকের কাছে মনে হয় বেশি স্পর্শযোগ্য, ধীর এবং মানুষের কাছাকাছি।
তবে আশির দশকের এই নস্টালজিয়া শুধু আশির দশকের মানুষের নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি প্রজন্মই একসময় বলে ‘আমাদের সময়টাই ভালো ছিল।’ মজার ব্যাপার হলো, আজ আমরা ১৯৮০-এর দশককে ফিরে দেখছি। অথচ হয়তো কয়েক বছর পর ২০২৬ সালটাকেই কেউ বলবে—‘ইশ, কী সুন্দর সময় ছিল।’ আসলে মানুষ বর্তমান সময়ের জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে নিজেকে সেই আগের সম য়ে নিতে যেতে চাইছেন। ওই সময়ের ফ্যাশন, আবহ, পরিবেশ তাদের ভালো লাগছে।

























