সংঘাত-বিধ্বস্ত মিয়ানমারে জুন মাস থেকে আটক এক মার্কিন ব্যবসায়ীকে মুক্ত করার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে দেশটিতে এক বিরল সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজধানী নেপিদোতে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
২০২১ সালে সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটি গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের মধ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোর মধ্যে এবারের বৈঠকটি অন্যতম।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র জানান, আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে মার্কিন প্রতিনিধিদল আটক মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্টিলোর মুক্তি নিশ্চিত করেছে।
তবে প্রতিনিধিদলে কারা ছিলেন এবং মিয়ানমারের কোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে, সে বিষয়ে মুখপাত্র বিস্তারিত কিছু জানাননি।
চলতি বছরের শুরুর দিকে এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসানোর পর মিয়ানমারের শাসকরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন।
সমালোচকেরা ওই নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তবে জান্তার প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি অংশকে মিয়ানমারের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এই প্রচেষ্টা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য অ্যাডাম কাস্টিলো মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে একটি নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। গত ১১ জুন শহরটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কাস্টিলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে, তিনি ‘আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর প্রধান হিসেবে নিজের পদ ব্যবহার করে ওয়াশিংটনে তদবির বা লবিং চালিয়েছিলেন।
তবে তার সমর্থকেরা এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, মিয়ানমারের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিরোধের জেরেই কাস্টিলোকে আটক করা হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে তার বোন আমান্ডা কাস্টিলো বলেন, মিয়ানমারে অ্যাডামকে ৯৭ দিন আটকে রাখা হয়েছিল, কারণ দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিল।
তিনি আরও বলেন, ভাইকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তবে আমি জানি, বিষয়টি তার জন্য মিশ্র অনুভূতির হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে তার অনেক বড় আশা ছিল এবং বার্মিজ জনগণের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে- যাদের মাঝে তিনি বহু বছর বসবাস করেছেন।

























