ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১০–২০ টাকা করে যাঁরা সঞ্চয় করেন, তাঁদের থেকেও কর নিতে চায় সরকার ১০ বছরে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ম্যাকডোনাল্ডস, বদলাবে মেনু ও সেবা কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প: মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্থিক অনিয়মের সন্দেহে রাকুল প্রীতদের প্রতিষ্ঠানে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি যাঁর সঞ্চয় সবচেয়ে কম, তাঁর কাছ থেকেই নেবে অতিরিক্ত রাজস্ব দুই দিনের মধ্যে আবার কমল সোনার দাম, ভরিতে ২১৫৮ টাকা বাণিজ্য জোট আরসিইপির সদস্য হতে চায় বাংলাদেশ, লাভ কী? আবার বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৬ ডলার ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম

মধ্যরাতে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩

  • আপডেট সময় : ১২:১৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ও ভোরে চালানো এসব হামলায় অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আফগান বার্তাসংস্থা খ্যামা প্রেস জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীদের উপস্থিতি নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এসব হামলার ঘটনা ঘটল। তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। সেখানকার পাটান গ্রামের একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়। এতে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। তালেবান-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তোর কান্দি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত দোকান এবং রাখায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব স্থানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা বেড়ে যাওয়ার পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই এসব হামলা চালানো হলো।

পাকিস্তানের দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) তথা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামক জঙ্গিগোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা নিরাপদ আস্তানা থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে তালেবান বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আফগানিস্তানে বিমান হামলার এক দিন আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় জঙ্গিদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তাসহ ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কোহাটে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার সঙ্গেও আফগানিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সীমান্তে বিমান হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এর আগে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতেও হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটির দাবি, এসব হামলায় টিটিপি ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত জঙ্গি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অবশ্য তালেবান কর্মকর্তারা আগের এসব পাকিস্তানি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে এগুলোকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, জঙ্গিদের আস্তানার বদলে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ।

তবে পাকিস্তানের দাবি, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার থেকেই তারা এসব পদক্ষেপ নেয়।

সর্বশেষ এসব হামলার ফলে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে আগে থেকেই টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে এই উত্তেজনা তৈরি হলো।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১০–২০ টাকা করে যাঁরা সঞ্চয় করেন, তাঁদের থেকেও কর নিতে চায় সরকার

মধ্যরাতে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩

আপডেট সময় : ১২:১৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ও ভোরে চালানো এসব হামলায় অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আফগান বার্তাসংস্থা খ্যামা প্রেস জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীদের উপস্থিতি নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এসব হামলার ঘটনা ঘটল। তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। সেখানকার পাটান গ্রামের একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়। এতে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। তালেবান-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তোর কান্দি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত দোকান এবং রাখায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব স্থানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা বেড়ে যাওয়ার পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই এসব হামলা চালানো হলো।

পাকিস্তানের দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) তথা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামক জঙ্গিগোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা নিরাপদ আস্তানা থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে তালেবান বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আফগানিস্তানে বিমান হামলার এক দিন আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় জঙ্গিদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তাসহ ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কোহাটে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার সঙ্গেও আফগানিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সীমান্তে বিমান হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এর আগে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতেও হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটির দাবি, এসব হামলায় টিটিপি ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত জঙ্গি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অবশ্য তালেবান কর্মকর্তারা আগের এসব পাকিস্তানি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে এগুলোকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, জঙ্গিদের আস্তানার বদলে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ।

তবে পাকিস্তানের দাবি, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার থেকেই তারা এসব পদক্ষেপ নেয়।

সর্বশেষ এসব হামলার ফলে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে আগে থেকেই টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে এই উত্তেজনা তৈরি হলো।