কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার সংকটের মুখে ডিলারের গুদাম ভেঙে প্রায় দুই শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় কিছু সার উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সারের তীব্র কৃত্রিম সংকট চলছে। নিয়মিত ঘুরেও ডিলারের কাছে সার পাচ্ছিলেন না কৃষকরা। অভিযোগ রয়েছে, ডিলারের গুদামে সার না থাকলেও খোলাবাজারে চড়া দামে ঠিকই সার মিলছিল।
ঘটনার দিন তিলাই ইউনিয়নের সার ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল তার বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে শিলখুড়ি ইউনিয়নের গুদামে রাখেন। সার পাওয়ার আশায় কৃষকরা বারবার গিয়েও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গুদামের তালা ভেঙে সার নেয়া শুরু করেন।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের প্রতিরোধ করে। পুলিশের অনুরোধে পরবর্তীতে ৩৩ জন কৃষক তাদের নেয়া ৩৩ বস্তা সার স্বেচ্ছায় ফেরত দেন। তবে ততক্ষণে বেশিরভাগ সার কৃষকদের হাতে চলে যায়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ডিলার তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ওই ইউনিয়নে মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা। এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। এ অবস্থায় রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, তার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা সার নিয়ে গেছে কৃষকরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, এখানে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু বরাদ্দ ১৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে থামিয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩ বস্তা সার। ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, আমি সারাদিন মিটিংয়ে ছিলাম। ফলে বিষয়টি জানি না।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক আবদুল্লা আল মামুন বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। যতটুকু জেনেছি ৩৪০ বস্তা সার মজুদ ছিল। সেখান থেকে ১৯০ বা ২৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

























