ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইরানের রাজধানী তেহরানে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা জোরদারের অংশ হিসেবে তার এই সফর। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ইরানের সামুদ্রিক প্রতিবেশী দেশ কাতার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে দোহা। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ক্ষেত্রেও সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল দেশটি। সেই যুদ্ধবিরতির ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল সংঘাত।

তবে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিরোধের বিষয় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।

সম্প্রতি ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যেই এই সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এই জলপথ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক আংশিকভাবে ভেঙে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বে সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। এটি গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।

যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দেশটির হাতে এখন পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। এসব অস্ত্র দিয়ে উপসাগরীয় যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব দেশে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা ইরানের আছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেছেন, তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখাসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তা ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরির উপায় নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
 

এনএ

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আইওএস ২৭ নামানোর পর বিপাকে আইফোন ব্যবহারকারীরা

ইরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইরানের রাজধানী তেহরানে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা জোরদারের অংশ হিসেবে তার এই সফর। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ইরানের সামুদ্রিক প্রতিবেশী দেশ কাতার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে দোহা। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ক্ষেত্রেও সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল দেশটি। সেই যুদ্ধবিরতির ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল সংঘাত।

তবে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিরোধের বিষয় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।

সম্প্রতি ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যেই এই সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এই জলপথ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক আংশিকভাবে ভেঙে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বে সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। এটি গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।

যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দেশটির হাতে এখন পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। এসব অস্ত্র দিয়ে উপসাগরীয় যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব দেশে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা ইরানের আছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেছেন, তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখাসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তা ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরির উপায় নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
 

এনএ