ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরানের নতুন অস্ত্রে বিস্মিত হবে বিশ্ব, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি তেহরানের

  • আপডেট সময় : ১২:১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে নতুন সক্ষমতার অস্ত্র ব্যবহার এবং এতে ‘বিশ্ব বিস্মিত হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে, তবে সেই পরাজয় স্বীকার করার সাহস ওয়াশিংটনের নেই।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমকিউ-১ ড্রোনের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে আরও আধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোনের অনেকগুলো হারানোর পর বাধ্য হয়ে আবার এমকিউ-১ ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে তারা।

আইআরজিসি বলেছে, ‘দুই ধরনের ড্রোনই আইআরজিসির নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে’। প্রসঙ্গত, মার্কিন বিমানবাহিনী ২০১৮ সালে এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোনের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ আসবে বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এসব পরিবর্তনের মধ্যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসরে পরিবর্তন এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তনও থাকবে। আমরা নতুন সক্ষমতার নতুন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে আসব এবং এতে বিশ্ব বিস্মিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যও আগের মতো থাকবে না। এমন নতুন লক্ষ্য রয়েছে, যেগুলোতে এখনো হামলা চালানো হয়নি।’

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। তবে সেই পরাজয় স্বীকার করার সাহস ওয়াশিংটনের নেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয় ঐতিহাসিক ও অপমানজনকও। কিন্তু এই পরাজয় স্বীকার ও মেনে নেয়ার সাহস তাদের নেই।’

মোহেবির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের অন্যতম প্রমাণ হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলতে না পারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ ইরান বন্ধ করে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সব সক্ষমতা কাজে লাগিয়েও হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘সক্ষম হয়নি’।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি ও পরিচালনা করা হয়েছিল, ইরানের হামলার কারণে সেগুলোই উল্টো নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বা সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

মোহেবি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছে। তার দাবি, এতে প্রমাণ হয়েছে এসব স্থাপনা ইরানের নাগালের বাইরে নয়। একই সঙ্গে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আইওএস ২৭ নামানোর পর বিপাকে আইফোন ব্যবহারকারীরা

ইরানের নতুন অস্ত্রে বিস্মিত হবে বিশ্ব, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি তেহরানের

আপডেট সময় : ১২:১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে নতুন সক্ষমতার অস্ত্র ব্যবহার এবং এতে ‘বিশ্ব বিস্মিত হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে, তবে সেই পরাজয় স্বীকার করার সাহস ওয়াশিংটনের নেই।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমকিউ-১ ড্রোনের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে আরও আধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোনের অনেকগুলো হারানোর পর বাধ্য হয়ে আবার এমকিউ-১ ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে তারা।

আইআরজিসি বলেছে, ‘দুই ধরনের ড্রোনই আইআরজিসির নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে’। প্রসঙ্গত, মার্কিন বিমানবাহিনী ২০১৮ সালে এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোনের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ আসবে বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এসব পরিবর্তনের মধ্যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসরে পরিবর্তন এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তনও থাকবে। আমরা নতুন সক্ষমতার নতুন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে আসব এবং এতে বিশ্ব বিস্মিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যও আগের মতো থাকবে না। এমন নতুন লক্ষ্য রয়েছে, যেগুলোতে এখনো হামলা চালানো হয়নি।’

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। তবে সেই পরাজয় স্বীকার করার সাহস ওয়াশিংটনের নেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয় ঐতিহাসিক ও অপমানজনকও। কিন্তু এই পরাজয় স্বীকার ও মেনে নেয়ার সাহস তাদের নেই।’

মোহেবির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের অন্যতম প্রমাণ হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলতে না পারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ ইরান বন্ধ করে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সব সক্ষমতা কাজে লাগিয়েও হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘সক্ষম হয়নি’।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি ও পরিচালনা করা হয়েছিল, ইরানের হামলার কারণে সেগুলোই উল্টো নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বা সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

মোহেবি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছে। তার দাবি, এতে প্রমাণ হয়েছে এসব স্থাপনা ইরানের নাগালের বাইরে নয়। একই সঙ্গে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।