যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ‘জাস্ট ইনোভেশন সেন্টারে (জেআইসি)’ নির্বাচিত প্রতিটি প্রকল্প সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইমপ্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্টের (আইসিএসইটিইপি) আওতায় প্রতিষ্ঠিতব্য এ ইনোভেশন সেন্টারের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপকে সহযোগিতা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রজেক্ট প্রপোজালে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আলম হোসেন স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে স্টার্টআপ প্রকল্পে আবেদন, নির্বাচন ও অর্থায়নের বিভিন্ন শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাস্তবায়নে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার। ইনোভেশন সেন্টারের লক্ষ্য হলো নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, নেটওয়ার্কিং ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে টেকসই ও আয়-উৎপাদনকারী স্টার্টআপ হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে যবিপ্রবির সিএসই বিভাগের স্টার্টআপ গ্রুপগুলোর কাছ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
ইনোভেশন সেন্টারের আওতায় নির্বাচিত স্টার্টআপগুলো প্রয়োজন ও অনুমোদন সাপেক্ষে সিএসই বিভাগে শেয়ার্ড অফিস স্পেস, মিটিং ও প্রেজেন্টেশনের সুবিধা এবং বিভাগীয় বিভিন্ন রিসোর্স ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, আইন, অর্থনীতি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে মেন্টরশিপের সুযোগ থাকবে। দেশে-বিদেশে থাকা যবিপ্রবির সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কাছ থেকেও ব্যবসায়িক, কারিগরি ও কৌশলগত পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।
এছাড়া প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, মার্কেট অ্যানালাইসিস, বিজনেস মডেল ও লিগ্যাল লিটারেসিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
প্রকল্পগুলোতে সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে না। ইভালুয়েশন কমিটির সুপারিশ ও প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ শুধুমাত্র প্রকল্পের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে যবিপ্রবির আর্থিক বিধি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
প্রকল্প নির্বাচনে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেয়া হবে। শর্টলিস্ট হওয়া আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার ও উপস্থাপনার জন্য ডাকা হবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণের সুযোগ, সামাজিক প্রভাব এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বিবেচনা করা হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যবিপ্রবির সিএসই বিভাগের শিক্ষকরা একটি ক্যাটাগরিতে এবং বিভাগের বর্তমান স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা অন্য ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটি প্রকল্প দলে সিএসই বিভাগের অন্তত দুজন শিক্ষক থাকতে হবে। তাদের একজন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এবং অন্যজন ডেপুটি প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ পাঁচজন বর্তমান বা সাবেক শিক্ষার্থীকে দলে রাখা যাবে। সব মিলিয়ে একটি প্রকল্প দলে সর্বোচ্চ সাতজন সদস্য থাকতে পারবেন।
আবেদন জমা দেয়ার শেষ সময় ২৮ সেপ্টেম্বর। আবেদন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। আগ্রহী স্টার্টআপ দলকে বিস্তারিত প্রজেক্ট প্রপোজালের সঙ্গে এক বছরের বাজেট জমা দিতে হবে। প্রতিটি দল থেকে একটি প্রস্তাব জমা দেয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকার ও মূল্যায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি প্রকল্পে একটি সুস্পষ্ট বিজনেস মডেল থাকা বাধ্যতামূলক। প্রস্তাবে টার্গেট মার্কেট, রেভিনিউ মডেল ও কমার্শিয়ালাইজেশন পটেনশিয়াল তুলে ধরতে হবে। শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও বাজার সক্ষমতা থাকা প্রকল্প ভবিষ্যতে অতিরিক্ত অর্থায়নের জন্যও বিবেচিত হতে পারে।
নির্বাচিত স্টার্টআপগুলো এক বছর ইনোভেশন সেন্টারের ইনকিউবেশন প্রোগ্রামের আওতায় থাকবে। এ সময়ে তারা নিয়মিত সহায়তা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রিসোর্স ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তবে ইনকিউবেশন প্রোগ্রামের শেষ পর্যায়ে শুধু প্রকল্প তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি নির্বাচিত স্টার্টআপকে নিজস্ব আইটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবে বাজারে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আয় করেছে—এমন প্রমাণও দিতে হবে।
পিআইইউ হেড এবং গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলম হোসেন বলেন, উপাচার্যের সভাপতিত্বে গর্ভনিং বডির মিটিংয়ে এই প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উনারাও এই প্রজেক্ট নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত।
তিনি বলেন, এই প্রজেক্টে একজন কো-অর্ডিনেটর এবং একজন ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর থাকবেন। শুধুমাত্র তারাই প্রজেক্ট জমা দিতে পারবেন। এছাড়াও প্রতিটি টিমে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন, যারা এই প্রজেক্টে সহায়তা করবেন। এখানে ছেলে-মেয়ে সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা স্টার্টআপ কোম্পানি চালু করা এবং উদ্যোক্তা তৈরি করা। অবশ্যই প্রতিটা স্টার্টআপকে নিজস্ব আইটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করে আয় করছে এমন প্রমাণও দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজনও করা হবে।



















