ঘি’তে ঘি নেই! বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়িসহ ১০ পণ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য
নাম ‘ঘি’, কিন্তু পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি ঘির অন্যতম প্রধান উপাদান। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে ‘ঘি’ নামে পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলাসহ মোট ১০টি পণ্য বাংলাদেশ মান অনুযায়ী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না—এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘিতে প্রয়োজনীয় মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে নির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্যটি প্রকৃত ঘি হিসেবে মানসম্পন্ন নয় বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে।
এ তালিকায় আরও রয়েছে কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।
পরীক্ষায় এসব পণ্যের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালুসহ বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত পাঁচ ধরনের মসলাও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। এগুলো হলো—কারী পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা।
বিএসটিআই জানিয়েছে, এসব মসলায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং পণ্যের উপাদান যাচাই করার পরামর্শ দেন।
বিএসটিআই বলছে, ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




















