ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

টানা দুই দিন কমল সোনার দাম, আজ ভরিতে ২২১৬ টাকা

  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমানো হয়েছে। আজ সোনার দাম ভরিতে কমেছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা। নতুন দর সকাল ১০টায় কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার মূল্যহ্রাসের বিষয়টি জানিয়েছে। তারা বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও মূল বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়া। একই সঙ্গে আজ রুপার দাম কমানো হয়েছে।

দাম সমন্বয়ের কারণে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ভালো মানের সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের দাম হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা; সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

আজ মূল্যহ্রাসের আগপর্যন্ত সোনার দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা; ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা; সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়। গতকাল সোমবার কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। আজ কমল ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে তিন দফায় ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম কমল মোট ৬ হাজার ৬৫ টাকা।

সোনার পাশাপাশি আজ রুপার দামও কমেছে। প্রতি ভরিতে দাম কমেছে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ৩১৫ টাকা।

দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এরপর সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছিল। তারপর আবার বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সোনার বাজার।

বিশ্ববাজারে কী পরিস্থিতি

টানা কয়েক দিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে। আজ মঙ্গলবার সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১০ ডলার কমেছে। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, আজ সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১২৬ ডলার। ফলে সোনার দাম সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে উঠেছিল।

সামগ্রিকভাবে গত ৩০ দিনে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২৯০ ডলার কমেছে। গত ছয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩৯১ ডলার।

সাধারণত অনিশ্চয়তার মধ্যে সোনার দাম বেড়ে যায়, কিন্তু এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সোনার দাম উল্টো কমেছে। আল–জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, সোনা সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কেননা তখন সুদ পাওয়া যায়—বিনিয়োগকারীরা এমন সম্পদে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরিফ ওথমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনে এর অতটা প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে যাঁরা মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা পেতে সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, বিশেষ করে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়।’

শরিফ ওথমান আরও বলেন, ‘সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এতে সোনার দামেও প্রভাব পড়ে।’

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আইওএস ২৭ নামানোর পর বিপাকে আইফোন ব্যবহারকারীরা

টানা দুই দিন কমল সোনার দাম, আজ ভরিতে ২২১৬ টাকা

আপডেট সময় : ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমানো হয়েছে। আজ সোনার দাম ভরিতে কমেছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা। নতুন দর সকাল ১০টায় কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার মূল্যহ্রাসের বিষয়টি জানিয়েছে। তারা বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও মূল বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়া। একই সঙ্গে আজ রুপার দাম কমানো হয়েছে।

দাম সমন্বয়ের কারণে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ভালো মানের সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের দাম হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা; সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

আজ মূল্যহ্রাসের আগপর্যন্ত সোনার দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা; ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা; সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়। গতকাল সোমবার কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। আজ কমল ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে তিন দফায় ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম কমল মোট ৬ হাজার ৬৫ টাকা।

সোনার পাশাপাশি আজ রুপার দামও কমেছে। প্রতি ভরিতে দাম কমেছে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ৩১৫ টাকা।

দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এরপর সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছিল। তারপর আবার বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সোনার বাজার।

বিশ্ববাজারে কী পরিস্থিতি

টানা কয়েক দিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে। আজ মঙ্গলবার সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১০ ডলার কমেছে। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, আজ সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১২৬ ডলার। ফলে সোনার দাম সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে উঠেছিল।

সামগ্রিকভাবে গত ৩০ দিনে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২৯০ ডলার কমেছে। গত ছয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩৯১ ডলার।

সাধারণত অনিশ্চয়তার মধ্যে সোনার দাম বেড়ে যায়, কিন্তু এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সোনার দাম উল্টো কমেছে। আল–জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, সোনা সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কেননা তখন সুদ পাওয়া যায়—বিনিয়োগকারীরা এমন সম্পদে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরিফ ওথমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনে এর অতটা প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে যাঁরা মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা পেতে সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, বিশেষ করে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়।’

শরিফ ওথমান আরও বলেন, ‘সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এতে সোনার দামেও প্রভাব পড়ে।’