‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬’ আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।
এ বছরের প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে কেবল পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার মৌলিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা না করে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাক্ষরতা বিস্তারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এখনও একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছে।
বিশেষ করে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের প্রথাগত বর্ণমালা চেনার সীমা অতিক্রম করে প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার ছায়াতলে আনাই এখন সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠিত হবে।

























