ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

৫ বছরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রথম আলো:

প্রবাসীদের অর্থ দেশে আনতে ও প্রবাসে ব্র্যান্ড ব্যাংকিং গঠনে এনআরবি ব্যাংক কত দূর এগিয়েছে?

তারেক রিয়াজ খান: প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ পথে দ্রুত ও নিরাপদে পাঠাতে আমরা ডিজিটাল অ্যাপ ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছি। এনআরবি ক্লিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনাবাসী বাংলাদেশিরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এই সুবিধা নিচ্ছেন বহু প্রবাসী বাংলাদেশি।

প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, তাৎক্ষণিক হিসাব খোলা, ডিজিটাল ‘এনআরবি ক্লিক’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ডিপিএস এবং প্রিমিয়াম রেমিট্যান্স ইনসেনটিভ সেবা দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করে অনন্য উচ্চতায় রয়েছে এনআরবি ক্লিক। এটি আমাদের ব্যাংকের অন্যতম বড় সাফল্য।

প্রথম আলো:

বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে আপনাদের বিশেষ সেবাগুলো কী? বিস্তারিত বলুন।

তারেক রিয়াজ খান: বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর গাইডলাইন ও আন্তর্জাতিক সাইবার সিকিউরিটি কাঠামোর মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রতিটি টাকার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আমাদের অ্যাপ ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে এনআরবি হিসাবে ব্যালেন্স দেখা, নিয়মিত হিসাব ও ডিপিএস খুলতে মাত্র কয়েকটি ক্লিকই যথেষ্ট।

রপ্তানিমুখী উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব প্রকল্প এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানার মালিকদের অর্থায়নে বিশেষ নজর রয়েছে।

এনআরবি ক্লিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনাবাসী বাংলাদেশিরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এই সুবিধা নিচ্ছেন বহু প্রবাসী বাংলাদেশি। 

তারেক রিয়াজ খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি ব্যাংক

প্রথম আলো:

আমানত ও বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

তারেক রিয়াজ খান: গ্রাহকের পরিবর্তিত চাহিদা, দ্রুততর সেবা এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন লেনদেনের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের ব্যাংক ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং ক্যাশলেস লেনদেনের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাংক একটি আধুনিক, দক্ষ ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।

প্রথম আলো:

সাইবার ঝুঁকি সামলে আন্তদেশীয় মুদ্রা লেনদেন নিরাপদ করতে কী ধরনের আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মানছেন? বিস্তারিত বলুন।

তারেক রিয়াজ খান: এনআরবি ব্যাংক ডিজিটাল আস্থার ভিত্তি হিসেবে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে গ্রাহকের তথ্য, আর্থিক সম্পদ এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাংক তার তথ্য নিরাপত্তাকাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে আইএসও সনদ অর্জন করেছে। এটি তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।

কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্টের নিরাপত্তা জোরদার করতে আমাদের পেমেন্ট কার্ড ইন্ডাস্ট্রি ডেটা সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ডের (পিসিআই ডিএসএস) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় ব্যাংকের তথ্য-নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নীতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তম চর্চা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি নিরাপত্তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিজনসে কন্টিনিউটি প্ল্যান ডকুমেন্ট এবং আইটি ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতা বজায় রাখার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ এবং তথ্য-নিরাপত্তা সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এনআরবি ব্যাংক একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রথম আলো:

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী অর্থায়নে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা কী? দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিকল্পনা নিয়ে বলুন।

তারেক রিয়াজ খান: আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা হলো—বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব গঠন, ক্যাশলেস ব্যাংকিং ত্বরান্বিত করা এবং দেশের খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনআরবি ব্যাংক শুরু থেকেই নানামুখী কাজ করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বাংলা কিউআর’ প্রচার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ক্যাশলেস সচেতনতা বাড়াতে আমরা নিয়মিত রোড শো ও মার্চেন্ট অনবোর্ডিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি, যা গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেক সহযোগিতা ভবিষ্যতের ব্যাংকিংয়ের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দেবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের ব্যয়ের ধরন বিশ্লেষণ করে তাঁদের জন্য আর্থিক পরামর্শ ও অফার দিতে পারব।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দূরদর্শী ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ভিশনের কারণে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ক্যাশলেস (নগদবিহীন) অর্থনীতির দিকে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস) প্ল্যাটফর্ম চালু করা, কিছু কর বা ভ্যাট ছাড়ের ব্যবস্থা করা, গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট অবকাঠামো আরও সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ক্যাশলেস পেমেন্ট ডিভাইস বা কিউআর কোড স্থাপনে সরকারি নীতি সহায়তা দেওয়া হলে আমাদের বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ বছরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

৫ বছরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১১:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথম আলো:

প্রবাসীদের অর্থ দেশে আনতে ও প্রবাসে ব্র্যান্ড ব্যাংকিং গঠনে এনআরবি ব্যাংক কত দূর এগিয়েছে?

তারেক রিয়াজ খান: প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ পথে দ্রুত ও নিরাপদে পাঠাতে আমরা ডিজিটাল অ্যাপ ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছি। এনআরবি ক্লিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনাবাসী বাংলাদেশিরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এই সুবিধা নিচ্ছেন বহু প্রবাসী বাংলাদেশি।

প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, তাৎক্ষণিক হিসাব খোলা, ডিজিটাল ‘এনআরবি ক্লিক’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ডিপিএস এবং প্রিমিয়াম রেমিট্যান্স ইনসেনটিভ সেবা দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করে অনন্য উচ্চতায় রয়েছে এনআরবি ক্লিক। এটি আমাদের ব্যাংকের অন্যতম বড় সাফল্য।

প্রথম আলো:

বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে আপনাদের বিশেষ সেবাগুলো কী? বিস্তারিত বলুন।

তারেক রিয়াজ খান: বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর গাইডলাইন ও আন্তর্জাতিক সাইবার সিকিউরিটি কাঠামোর মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রতিটি টাকার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আমাদের অ্যাপ ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে এনআরবি হিসাবে ব্যালেন্স দেখা, নিয়মিত হিসাব ও ডিপিএস খুলতে মাত্র কয়েকটি ক্লিকই যথেষ্ট।

রপ্তানিমুখী উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব প্রকল্প এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানার মালিকদের অর্থায়নে বিশেষ নজর রয়েছে।

এনআরবি ক্লিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনাবাসী বাংলাদেশিরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এই সুবিধা নিচ্ছেন বহু প্রবাসী বাংলাদেশি। 

তারেক রিয়াজ খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি ব্যাংক

প্রথম আলো:

আমানত ও বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

তারেক রিয়াজ খান: গ্রাহকের পরিবর্তিত চাহিদা, দ্রুততর সেবা এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন লেনদেনের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের ব্যাংক ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং ক্যাশলেস লেনদেনের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাংক একটি আধুনিক, দক্ষ ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।

প্রথম আলো:

সাইবার ঝুঁকি সামলে আন্তদেশীয় মুদ্রা লেনদেন নিরাপদ করতে কী ধরনের আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মানছেন? বিস্তারিত বলুন।

তারেক রিয়াজ খান: এনআরবি ব্যাংক ডিজিটাল আস্থার ভিত্তি হিসেবে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে গ্রাহকের তথ্য, আর্থিক সম্পদ এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাংক তার তথ্য নিরাপত্তাকাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে আইএসও সনদ অর্জন করেছে। এটি তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।

কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্টের নিরাপত্তা জোরদার করতে আমাদের পেমেন্ট কার্ড ইন্ডাস্ট্রি ডেটা সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ডের (পিসিআই ডিএসএস) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় ব্যাংকের তথ্য-নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নীতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তম চর্চা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি নিরাপত্তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিজনসে কন্টিনিউটি প্ল্যান ডকুমেন্ট এবং আইটি ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতা বজায় রাখার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ এবং তথ্য-নিরাপত্তা সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এনআরবি ব্যাংক একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রথম আলো:

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী অর্থায়নে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা কী? দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিকল্পনা নিয়ে বলুন।

তারেক রিয়াজ খান: আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা হলো—বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব গঠন, ক্যাশলেস ব্যাংকিং ত্বরান্বিত করা এবং দেশের খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনআরবি ব্যাংক শুরু থেকেই নানামুখী কাজ করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বাংলা কিউআর’ প্রচার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ক্যাশলেস সচেতনতা বাড়াতে আমরা নিয়মিত রোড শো ও মার্চেন্ট অনবোর্ডিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি, যা গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেক সহযোগিতা ভবিষ্যতের ব্যাংকিংয়ের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দেবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের ব্যয়ের ধরন বিশ্লেষণ করে তাঁদের জন্য আর্থিক পরামর্শ ও অফার দিতে পারব।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দূরদর্শী ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ভিশনের কারণে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ক্যাশলেস (নগদবিহীন) অর্থনীতির দিকে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস) প্ল্যাটফর্ম চালু করা, কিছু কর বা ভ্যাট ছাড়ের ব্যবস্থা করা, গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট অবকাঠামো আরও সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ক্যাশলেস পেমেন্ট ডিভাইস বা কিউআর কোড স্থাপনে সরকারি নীতি সহায়তা দেওয়া হলে আমাদের বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে।