ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ব্যাংক খাত সংস্কারসহ একনেকে ১৩ প্রকল্প পাস, খরচ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা

  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কারে বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ বা এফএসএসপি-২ শীর্ষক প্রকল্পে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় এ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কার, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদারে এ নতুন প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত (রিজার্ভ) এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের আমানত সংরক্ষণব্যবস্থার জন্য সফটওয়্যার কেনা হবে। সার্ভার যন্ত্রপাতি ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সরঞ্জাম কিনতে ৭০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হবে।

আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

সভা শেষে দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থার তদারকি শক্তিশালী করতে এবং সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষায় এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে। অর্থপাচারের নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হবে। পুরো প্রযুক্তিব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।

অন্যান্য প্রকল্প

একনেকে অনুমোদিত ১৩ প্রকল্পে খরচ হবে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৮২ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হবে। বাকি ৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা প্রকল্পসহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—যক্ষ্মা, এইচআইভি এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার করা; পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন; চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন; কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাঁধ ও তীর সংরক্ষণ; হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর সংরক্ষণ; মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার কয়েকটি এলাকা রক্ষা; মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন; রংপুর বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালী করা; ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩ সিটির ভূমি ব্যবস্থাপনা; হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়); ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ; তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, বারবার যেন সময় বৃদ্ধি না করা হয়, সে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যৌক্তিক কারণে সময় বাড়ানো হলেও এর জবাবদিহি করতে বলেছেন সরকারপ্রধান। প্রকল্প তৈরির আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুসারে ঠিকাদারের পাওনা ছিল ২৯৪ কোটি টাকা। রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আছে। কার্গো ব্যবস্থাপনা ও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষার বিষয় আছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর টার্মিনাল উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার যোগ করে বলেন, প্রকল্পে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছিল না। এখন তা সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ বছরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

ব্যাংক খাত সংস্কারসহ একনেকে ১৩ প্রকল্প পাস, খরচ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কারে বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ বা এফএসএসপি-২ শীর্ষক প্রকল্পে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় এ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কার, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদারে এ নতুন প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত (রিজার্ভ) এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের আমানত সংরক্ষণব্যবস্থার জন্য সফটওয়্যার কেনা হবে। সার্ভার যন্ত্রপাতি ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সরঞ্জাম কিনতে ৭০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হবে।

আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

সভা শেষে দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থার তদারকি শক্তিশালী করতে এবং সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষায় এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে। অর্থপাচারের নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হবে। পুরো প্রযুক্তিব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।

অন্যান্য প্রকল্প

একনেকে অনুমোদিত ১৩ প্রকল্পে খরচ হবে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৮২ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হবে। বাকি ৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা প্রকল্পসহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—যক্ষ্মা, এইচআইভি এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার করা; পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন; চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন; কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাঁধ ও তীর সংরক্ষণ; হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর সংরক্ষণ; মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার কয়েকটি এলাকা রক্ষা; মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন; রংপুর বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালী করা; ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩ সিটির ভূমি ব্যবস্থাপনা; হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়); ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ; তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, বারবার যেন সময় বৃদ্ধি না করা হয়, সে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যৌক্তিক কারণে সময় বাড়ানো হলেও এর জবাবদিহি করতে বলেছেন সরকারপ্রধান। প্রকল্প তৈরির আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুসারে ঠিকাদারের পাওনা ছিল ২৯৪ কোটি টাকা। রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আছে। কার্গো ব্যবস্থাপনা ও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষার বিষয় আছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর টার্মিনাল উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার যোগ করে বলেন, প্রকল্পে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছিল না। এখন তা সন্নিবেশিত করা হয়েছে।