ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলাপি ঋণ ১ শতাংশের নিচে

  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালের শুরুতে যাত্রা করে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। ইতিমধ্যে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি তারা কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করছে। মূলত ২০২১ সালের মার্চে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়। তখন থেকেই সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানটির বেশ অগ্রগতি আছে। আমানত ও ঋণ বিতরণে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি ব্যাংকটি বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থানের মধ্যে আমানত ও ঋণপ্রবাহে বেশ প্রবৃদ্ধি আছে। ২০২১ সালে ব্যাংকের আমানত ছিল ৪৪০ কোটি টাকা, যা মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায়। একই সময়ে ঋণস্থিতি ২৪৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানায় ব্যাংকটি।

ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এ ক্ষেত্রে বেঙ্গল ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে তাদের এনপিএলের হার মাত্র দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর্থিক সুশাসনের এ ইতিবাচক ধারায় ব্যাংকটির ক্রেডিট রেটিং ‘ডাবল এ মাইনাস’, মূলধন পর্যাপ্ততার হার ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার নিচে ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশে রয়েছে। পরিচালন মুনাফা ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ব্যাংকটি সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে।

‘ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের গতি যত বাড়বে, গ্রাহকের আস্থা ও নিরাপত্তার দায়িত্বও তত বাড়বে’—এ দর্শন ধারণ করে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে জোর দিয়েছে ব্যাংকটি। ইতিমধ্যে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও ডিজিটাল রূপান্তরে তারা গড়ে তুলেছে নিজস্ব স্বকীয়তা। উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই কোনো স্পন্সর ব্যাংক ছাড়াই নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারিং হাউসের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে লেনদেন শুরু করেছে তারা।

বর্তমানে দেশজুড়ে ২৬টি শাখা ও ১১টি উপশাখার পাশাপাশি ‘বেঙ্গল ইন্সপায়ার’ অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ই-কেওয়াইসি সুবিধার কারণে এখন শাখায় না গিয়েও কাগজবিহীন হিসাব খোলা ও তাৎক্ষণিক ঋণসেবা পাওয়া গ্রাহকদের জন্য অনেক সহজ হয়েছে।

বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক ব্যাংকটির সেবা নিচ্ছেন। গ্রাহকসেবাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন করতে চালু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (১৬৭৯৬) ও বাংলা কিউআর কোড সার্ভিস। এ ছাড়া ভিসা অ্যাফিলিয়েট মেম্বারশিপের মাধ্যমে মাল্টিকারেন্সি ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রি–পেইড কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় ৪৩ হাজার গ্রাহক। ডিজিটাল লেনদেনকে নিরাপদ করতে পিসিআই ডিএসএস এবং আইএসও ২৭০০১ ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকটি উৎপাদনশীল খাত ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এগিয়েছে উল্লেখ করে জানায়, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, পাটশিল্পসহ টেকসই খাতে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং সিএমএসএমই খাতের যাত্রাবাড়ী-ধোলাইখাল ও নবাবপুর ক্লাস্টারে মোট ৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের অংশীদারত্ব, ১০ টাকার সঞ্চয়ী হিসাব, ‘বেঙ্গল স্বনির্ভর ঋণ’, ‘ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা’ ও ‘এসআইসিআইপি’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও বগুড়ায় প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবাস আয়ে ১৭১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের পাশাপাশি ৬২৪ জন প্রত্যক্ষ কর্মীর নিয়োগ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খেলাপি ঋণ ১ শতাংশের নিচে

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালের শুরুতে যাত্রা করে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। ইতিমধ্যে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি তারা কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করছে। মূলত ২০২১ সালের মার্চে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়। তখন থেকেই সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানটির বেশ অগ্রগতি আছে। আমানত ও ঋণ বিতরণে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি ব্যাংকটি বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থানের মধ্যে আমানত ও ঋণপ্রবাহে বেশ প্রবৃদ্ধি আছে। ২০২১ সালে ব্যাংকের আমানত ছিল ৪৪০ কোটি টাকা, যা মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায়। একই সময়ে ঋণস্থিতি ২৪৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানায় ব্যাংকটি।

ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এ ক্ষেত্রে বেঙ্গল ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে তাদের এনপিএলের হার মাত্র দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর্থিক সুশাসনের এ ইতিবাচক ধারায় ব্যাংকটির ক্রেডিট রেটিং ‘ডাবল এ মাইনাস’, মূলধন পর্যাপ্ততার হার ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার নিচে ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশে রয়েছে। পরিচালন মুনাফা ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ব্যাংকটি সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে।

‘ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের গতি যত বাড়বে, গ্রাহকের আস্থা ও নিরাপত্তার দায়িত্বও তত বাড়বে’—এ দর্শন ধারণ করে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে জোর দিয়েছে ব্যাংকটি। ইতিমধ্যে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও ডিজিটাল রূপান্তরে তারা গড়ে তুলেছে নিজস্ব স্বকীয়তা। উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই কোনো স্পন্সর ব্যাংক ছাড়াই নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারিং হাউসের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে লেনদেন শুরু করেছে তারা।

বর্তমানে দেশজুড়ে ২৬টি শাখা ও ১১টি উপশাখার পাশাপাশি ‘বেঙ্গল ইন্সপায়ার’ অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ই-কেওয়াইসি সুবিধার কারণে এখন শাখায় না গিয়েও কাগজবিহীন হিসাব খোলা ও তাৎক্ষণিক ঋণসেবা পাওয়া গ্রাহকদের জন্য অনেক সহজ হয়েছে।

বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক ব্যাংকটির সেবা নিচ্ছেন। গ্রাহকসেবাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন করতে চালু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (১৬৭৯৬) ও বাংলা কিউআর কোড সার্ভিস। এ ছাড়া ভিসা অ্যাফিলিয়েট মেম্বারশিপের মাধ্যমে মাল্টিকারেন্সি ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রি–পেইড কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় ৪৩ হাজার গ্রাহক। ডিজিটাল লেনদেনকে নিরাপদ করতে পিসিআই ডিএসএস এবং আইএসও ২৭০০১ ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকটি উৎপাদনশীল খাত ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এগিয়েছে উল্লেখ করে জানায়, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, পাটশিল্পসহ টেকসই খাতে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং সিএমএসএমই খাতের যাত্রাবাড়ী-ধোলাইখাল ও নবাবপুর ক্লাস্টারে মোট ৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের অংশীদারত্ব, ১০ টাকার সঞ্চয়ী হিসাব, ‘বেঙ্গল স্বনির্ভর ঋণ’, ‘ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা’ ও ‘এসআইসিআইপি’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও বগুড়ায় প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবাস আয়ে ১৭১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের পাশাপাশি ৬২৪ জন প্রত্যক্ষ কর্মীর নিয়োগ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।