ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিটিজেন্​স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মাত্র ০.৩২ শতাংশ

  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

প্রতিষ্ঠার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরেই প্রথাগত ব্যাংকিং কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন এক পথ তৈরি করেছে সিটিজেন্​স ব্যাংক পিএলসি। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠার পর ১৫ ডিসেম্বর লাইসেন্স পেয়ে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

সততা, দলবদ্ধতা, সম্মান, জবাবদিহি ও সেবাকে প্রাধান্য দিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সিটিজেন্​স ব্যাংক। খেলাপিমুক্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ব্যাংকটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।

ব্যাংকটি জানায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দেশজুড়ে ২২টি শাখা, ৮টি উপশাখা ও ৪টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে তাদের সেবা প্রান্তিক পর্যায়েও সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট গ্রাহকসংখ্যা ৫০ হাজার ৫৫২, যার মধ্যে নারী গ্রাহকের হার ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ। ব্যাংকটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা। তাদের মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) ৩৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

আর্থিক সূচকে ব্যাংকটির অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। ২০২২ সালে যেখানে মোট আমানত ছিল ২৯০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে তা বহুগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। একই সময়ে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ৯৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা থেকে পৌঁছেছে ১ হাজার ৫২৭ কোটি টাকায়। সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ, যা দীর্ঘ সময় শূন্য শতাংশে অবস্থান করছিল। ব্যাংকটির মোট ঋণের ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ করপোরেট খাতে এবং ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ এসএমই ও কৃষি খাতে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

সিটিজেন্​স ব্যাংক জানায়, গ্রাহকদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই ব্যাংকটি আধুনিক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ‘ব্যাংকআল্টিমাস’ ব্যবহার করছে। ডিজিটাল সেবার অংশ হিসেবে চালু করেছে ‘সিটিজেন্​স ফাস্ট’ মোবাইল অ্যাপ সুবিধা। এ ছাড়া নিজস্ব কিউআর ও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ক্যাশলেস পেমেন্ট সেবা দিচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই বিইএফটিএন, আরটিজিএস ও এনপিএসবির মতো আন্তব্যাংক লেনদেনের সুবিধা চালু রেখেছে তারা।

গ্রাহকের তথ্য ও আমানতের সুরক্ষায় ব্যাংকটি একটি আন্তর্জাতিক মানের টায়ার-৩ সার্টিফায়েড ডেটা সেন্টারে তাদের কোর ব্যাংকিং ও আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার পরিচালনা করছে। এখানে ফিজিক্যাল সিকিউরিটির জন্য বায়োমেট্রিক স্ক্যানার ও ফেস রিকগনিশন ব্যবহার করা হয়। সাইবার আক্রমণ প্রতিহত করতে অ্যাডভান্সড ফায়ারওয়াল ও ডিডিওএস প্রটেকশন রয়েছে এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করা হয়।

তরুণ উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘সিটিজেন্​স উদ্যোগ’ এবং কর্মজীবীদের জন্য ‘সিটিজেন্​স ইত্যাদি’ নামে বিশেষ লাইফস্টাইল ঋণসুবিধা চালু করেছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকটির সবুজ অর্থায়নের হার ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। পাশাপাশি, জাতীয় অর্থনীতিতেও ব্যাংকটি বড় ভূমিকা রাখছে; ২০২৫ সালে তারা ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা আয়কর এবং ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা ভ্যাট দিয়েছে।

নিরাপদ ব্যাংকিং, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গ্রাহকবান্ধব সেবার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী ও আস্থাশীল অবস্থান ধরে রাখতে চায় সিটিজেন্​স ব্যাংক।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সিটিজেন্​স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মাত্র ০.৩২ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিষ্ঠার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরেই প্রথাগত ব্যাংকিং কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন এক পথ তৈরি করেছে সিটিজেন্​স ব্যাংক পিএলসি। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠার পর ১৫ ডিসেম্বর লাইসেন্স পেয়ে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

সততা, দলবদ্ধতা, সম্মান, জবাবদিহি ও সেবাকে প্রাধান্য দিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সিটিজেন্​স ব্যাংক। খেলাপিমুক্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ব্যাংকটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।

ব্যাংকটি জানায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দেশজুড়ে ২২টি শাখা, ৮টি উপশাখা ও ৪টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে তাদের সেবা প্রান্তিক পর্যায়েও সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট গ্রাহকসংখ্যা ৫০ হাজার ৫৫২, যার মধ্যে নারী গ্রাহকের হার ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ। ব্যাংকটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা। তাদের মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) ৩৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

আর্থিক সূচকে ব্যাংকটির অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। ২০২২ সালে যেখানে মোট আমানত ছিল ২৯০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে তা বহুগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। একই সময়ে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ৯৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা থেকে পৌঁছেছে ১ হাজার ৫২৭ কোটি টাকায়। সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ, যা দীর্ঘ সময় শূন্য শতাংশে অবস্থান করছিল। ব্যাংকটির মোট ঋণের ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ করপোরেট খাতে এবং ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ এসএমই ও কৃষি খাতে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

সিটিজেন্​স ব্যাংক জানায়, গ্রাহকদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই ব্যাংকটি আধুনিক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ‘ব্যাংকআল্টিমাস’ ব্যবহার করছে। ডিজিটাল সেবার অংশ হিসেবে চালু করেছে ‘সিটিজেন্​স ফাস্ট’ মোবাইল অ্যাপ সুবিধা। এ ছাড়া নিজস্ব কিউআর ও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ক্যাশলেস পেমেন্ট সেবা দিচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই বিইএফটিএন, আরটিজিএস ও এনপিএসবির মতো আন্তব্যাংক লেনদেনের সুবিধা চালু রেখেছে তারা।

গ্রাহকের তথ্য ও আমানতের সুরক্ষায় ব্যাংকটি একটি আন্তর্জাতিক মানের টায়ার-৩ সার্টিফায়েড ডেটা সেন্টারে তাদের কোর ব্যাংকিং ও আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার পরিচালনা করছে। এখানে ফিজিক্যাল সিকিউরিটির জন্য বায়োমেট্রিক স্ক্যানার ও ফেস রিকগনিশন ব্যবহার করা হয়। সাইবার আক্রমণ প্রতিহত করতে অ্যাডভান্সড ফায়ারওয়াল ও ডিডিওএস প্রটেকশন রয়েছে এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করা হয়।

তরুণ উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘সিটিজেন্​স উদ্যোগ’ এবং কর্মজীবীদের জন্য ‘সিটিজেন্​স ইত্যাদি’ নামে বিশেষ লাইফস্টাইল ঋণসুবিধা চালু করেছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকটির সবুজ অর্থায়নের হার ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। পাশাপাশি, জাতীয় অর্থনীতিতেও ব্যাংকটি বড় ভূমিকা রাখছে; ২০২৫ সালে তারা ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা আয়কর এবং ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা ভ্যাট দিয়েছে।

নিরাপদ ব্যাংকিং, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গ্রাহকবান্ধব সেবার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী ও আস্থাশীল অবস্থান ধরে রাখতে চায় সিটিজেন্​স ব্যাংক।